Wednesday, 14 October 2015

প্রাকৃতিক বিপর্যয়, দারিদ্র্য, সামাজিক নির্বাচন এবং কল্যাণকর অর্থনীতির বিশ্ববরেণ্য অগ্রণী চিন্তাবিদ অমর্ত্য সেন -এর কিছু মূল্যবান উক্তি।

১৯৯৮ সালের ১৪ই অক্টোবর অর্থাৎ আজকের দিনে, অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন, মানব উন্নয়ন বিষয়ক গবেষণায় অবদানের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।  প্রাকৃতিক বিপর্যয়, দারিদ্র্য, সামাজিক নির্বাচন এবং কল্যাণকর অর্থনীতির বিশ্ববরেণ্য এই অগ্রণী চিন্তাবিদের কিছু মূল্যবান  উক্তি এই বিশেষ দিনে রইল।


"ভোটের দিকে তাকিয়ে বা নির্বাচন মুখাপেক্ষী হয়ে পূর্ণাঙ্গ সামাজিক উন্নয়নের কর্মসূচী সম্পন্ন হয় না। শুধু উন্নয়নশীল দেশ কেন উন্নত ধনী দেশও শুধুমাত্র বেসরকারী পুঁজির ওপর নির্ভরশীল স্বাস্থ্য পরিষেবা দিয়ে সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা দিতে পারে না। জনস্বাস্থ্যের অগ্রগতিতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগই একান্ত জরুরী।"



"মানবিক প্রগতি ছাড়া অর্থনৈতিক প্রগতি অর্জন কঠিন। উন্নয়নের ক্ষেত্রে এ দুটি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত, আবার কখনও তা দ্বান্দ্বিকও হতে পারে। তবে উন্নয়নের সব ক্ষেত্রে মানবিক প্রগতির বিষয়টি বিবেচনায় না নিলে থেমে যেতে পারে অর্থনৈতিক অগ্রগতি।"








"অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে, এটিই স্বাভাবিক। এতে বেসরকারি খাত সমৃদ্ধ হবে। বাড়বে সরকারের রাজস্ব। কিন্তু এক্ষেত্রে মানবিক উন্নয়নের দিকে সরকারের নজর না থাকলে এর বাণিজ্যিকীকরণ ঘটবে। এর ফলে বেড়ে যাবে সেবার মূল্য, যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে। ফলে স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ সেবা খাতগুলো গণমানুষের চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হবে। ধনীরা সেবা পেলেও বঞ্চিত হবে দরিদ্র মানুষ। অর্থাৎ অর্থনীতির উন্নতি হলেও এতে গণমানুষের উন্নতি হবে না। যে উন্নতির সুফল পাবে সর্বস্তরের মানুষ, সেটিই মানবিক প্রগতি। এটি নিশ্চিত করতে হবে সরকারি উদ্যোগে।"



"আমাদের সমাজে আয় ও সম্পদের বৈষম্য অত্যন্ত প্রকট। উন্নতির সুফল ভোগ করে মুষ্টিমেয় মানুষ। এক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা জরুরি। "

Friday, 2 October 2015

মহাত্মা গান্ধীর জিবনের ৯টি অজানা তথ্য।



মহাত্মা গান্ধী কে আমরা সবাই চিনি জাতির জণক হিসেবে। কিন্ত ওনার ব্যাপারে আমরা কিছু জানলেও খুব অল্পই জানি। এমন কিছু অজানা তথ্য আপনাদের কাছে তুলে ধরলাম।

১। গান্ধীজীর 'মহাত্মা' নামটি তাকে দিয়েছিলেন কবি গুরু রবিন্দ্রানাথ ঠাকুর।

মহাত্মা গান্ধী ও রবিন্দ্রানাথ ঠাকুর।

২। মহাত্মা গান্ধী কে শান্তির কারনে ৫ বার নোবেল প্রাইজের জন্য মনোনীত করা হয়েছিল।

Image source
মহাত্মা গান্ধী চরকায় সুতা কাটছেন।
নোবেল সমিতি এখনো দুঃখিত ওনাকে নোবেল প্রাইজ না দিতে পেরে কারন এই পুরষ্কারটি কখনও মৃত্যুর পরে কাউকেই দাওয়া হয়নি।

৩। মহাত্মা গান্ধী ৪টি মহাদেশ ও ১২টি দেশে নাগরিক অধিকার আন্দলনের জন্য দায়ী।

জাতির জণক মহাত্মা গান্ধী।

 

৪। মহাত্মা গান্ধীর অন্ত্যেস্টিক্রিয়া যাত্রা ৮ কিলোমিটার লম্বা ছিল।

Image source
মহাত্মা গান্ধীর অন্ত্যেস্টিক্রিয়া যাত্রা

৫। গ্রেট ব্রিটেন, জেই দেশের বিরুদ্ধে মহাত্মা গান্ধী স্বাধীনতার জন্য লড়েছিলেন, তার মৃত্যুর ২১ বছর পর ওনাকে সম্মান জানিয়ে একটি স্ট্যাম্প বের করেছিল।

Image source
মহাত্মা গান্ধীকে সম্মান জানিয়ে গ্রেট ব্রিটেনের স্ট্যাম্প।

৬। মহাত্মা গান্ধী অ্যাংলো-বোয়ার যুদ্ধে (১৮৯৯-১৯০২)  ইন্ডিয়ান অ্যাম্বুলেন্স কর্পস গঠন করেন।

মহাত্মা গান্ধী ও ইন্ডিয়ান অ্যাম্বুলেন্স কর্পস

৭। মহাত্মা গান্ধীর অনেকের সাথে পত্রবিনিময়ের সম্পর্ক ছিল - টলস্টয়, আইনস্টাইন আর হিটলার ছিল সেই তালিকায়।

মহাত্মা গান্ধীর লিও টলস্টয়কে লেখা একটি চিঠি।

৮। ৫৩টি বড় রাস্তা (ছোট রাস্তা ছেরে) ইন্ডিয়ার ভেতর ও ৪৮ রাস্তা ইন্ডিয়ার বাইরে মহাত্মা গান্ধীর নামে নামাঙ্কিত।

Image source
মহাত্মা গান্ধীর নামে নামাঙ্কিত একটি রাস্তার সাইন বোর্ড।

৯। মহাত্মা গান্ধীর সাহাজ্যে ৩টি ফুটবল ক্লাব স্থাপন করা হয়- একটি দূরবানে, একটি প্রেটোরিয়া ও একটি জহান্নেসবার্গ এবং তিনটির নাম একই- 'প্যাসিভ রেসিস্টর্স সকার ক্লাব'।

Image source
মহাত্মা গান্ধীর সাথে প্যাসিভ রেসিস্টর্স সকার ক্লাবের খেলয়াররা।
মহাত্মা গান্ধী ফুটবলকে তার জাতিগত বৈষম্যের বিরুদ্ধে শান্ত প্রচারে উন্নীত করেছিলেন।