১৯৯৮ সালের ১৪ই অক্টোবর অর্থাৎ আজকের দিনে, অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন, মানব উন্নয়ন বিষয়ক গবেষণায় অবদানের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। প্রাকৃতিক বিপর্যয়, দারিদ্র্য, সামাজিক নির্বাচন এবং কল্যাণকর অর্থনীতির বিশ্ববরেণ্য এই অগ্রণী চিন্তাবিদের কিছু মূল্যবান উক্তি এই বিশেষ দিনে রইল।
"ভোটের দিকে তাকিয়ে বা নির্বাচন মুখাপেক্ষী হয়ে পূর্ণাঙ্গ সামাজিক উন্নয়নের কর্মসূচী সম্পন্ন হয় না। শুধু উন্নয়নশীল দেশ কেন উন্নত ধনী দেশও শুধুমাত্র বেসরকারী পুঁজির ওপর নির্ভরশীল স্বাস্থ্য পরিষেবা দিয়ে সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা দিতে পারে না। জনস্বাস্থ্যের অগ্রগতিতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগই একান্ত জরুরী।"
"ভোটের দিকে তাকিয়ে বা নির্বাচন মুখাপেক্ষী হয়ে পূর্ণাঙ্গ সামাজিক উন্নয়নের কর্মসূচী সম্পন্ন হয় না। শুধু উন্নয়নশীল দেশ কেন উন্নত ধনী দেশও শুধুমাত্র বেসরকারী পুঁজির ওপর নির্ভরশীল স্বাস্থ্য পরিষেবা দিয়ে সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা দিতে পারে না। জনস্বাস্থ্যের অগ্রগতিতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগই একান্ত জরুরী।"
"মানবিক প্রগতি ছাড়া অর্থনৈতিক প্রগতি অর্জন কঠিন। উন্নয়নের ক্ষেত্রে এ দুটি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত, আবার কখনও তা দ্বান্দ্বিকও হতে পারে। তবে উন্নয়নের সব ক্ষেত্রে মানবিক প্রগতির বিষয়টি বিবেচনায় না নিলে থেমে যেতে পারে অর্থনৈতিক অগ্রগতি।"

"অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে, এটিই স্বাভাবিক। এতে বেসরকারি খাত সমৃদ্ধ হবে। বাড়বে সরকারের রাজস্ব। কিন্তু এক্ষেত্রে মানবিক উন্নয়নের দিকে সরকারের নজর না থাকলে এর বাণিজ্যিকীকরণ ঘটবে। এর ফলে বেড়ে যাবে সেবার মূল্য, যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে। ফলে স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ সেবা খাতগুলো গণমানুষের চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হবে। ধনীরা সেবা পেলেও বঞ্চিত হবে দরিদ্র মানুষ। অর্থাৎ অর্থনীতির উন্নতি হলেও এতে গণমানুষের উন্নতি হবে না। যে উন্নতির সুফল পাবে সর্বস্তরের মানুষ, সেটিই মানবিক প্রগতি। এটি নিশ্চিত করতে হবে সরকারি উদ্যোগে।"
"আমাদের সমাজে আয় ও সম্পদের বৈষম্য অত্যন্ত প্রকট। উন্নতির সুফল ভোগ করে মুষ্টিমেয় মানুষ। এক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা জরুরি। "

